তাঁদের, আমাদের আর তোমাদের কথা

লেখকঃ আবু জাফর মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ

তিনটি সময়: তিন প্রজনন্ম।

আমার বাবা ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক (Matriculation) পাস করেন। আমি তার ঠিক ১৭ বছর পর ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি. পাস করি। আর এ বছর ২০১৯ সালে আমার মেয়ে চট্টগ্রাম বোর্ড থেকে এস.এস.সি. পাস করে। আমাদের তিন পুরুষের, তিন প্রজন্মের স্কুল জীবন শেষ করার গল্পটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমার বাবা এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীদেরকে বুঝাতে এখানে ‘তাঁদের’ সর্বনামটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি এবং আমার বন্ধুদের সময়টিকে বুঝাতে বলছি ‘আমাদের’ আর সম্পূর্ণ নতুন প্রজন্মের এদেরকে বুঝাচ্ছি ‘তোমাদের’ বলে।

সময়ের বিবেচনায় আমার বাবা, অর্থাৎ আমার মেয়ের দাদু-ভাইয়ের যুগটিকে বলা হয় ষাটের দশক। ষাটের দশক আমাদের বাংলাদেশ ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান’ বা পাকিস্তানের একটি প্রদেশ। রাজধানী ছিল ঢাকা। তখন সমস্ত পূর্ব পাকিস্তানে একটি শিক্ষাবোর্ড ছিল ঢাকা বোর্ড। স্কুল সমাপনী পরীক্ষা হতো দুটি বিভাগে। আর্টস এবং সাইন্স। বোর্ড পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীগণ বিভিন্ন শ্রেণিতে পাস করতো। ১ম, ২য়, বা ৩য় শ্রেণি। মেধাবীগণ ১ম শ্রেণীতে পাস করতো। গড়ে ৬০ নাম্বার পেলে ১ম শ্রেণি নিশ্চিত হতো। তখন নাম্বারের দিক পেলে ১ম – ২০তম পর্যন্ত বোর্ড স্ট্যান্ড ধরা হতো। স্ট্যান্ড করা ছাত্র-ছাত্রীরা সবার সমীহ, শ্রদ্ধা ও ভালবাসা অর্জন করতেন। ভাল কলেজগুলোতে ভর্তির ব্যাপারে তারা সহজেই সুযোগ পেতেন। তখন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা থাকত কম। কলেজগুলোতে আসন সংখ্যাও থাকত সীমিত। তারপরও ১ম শ্রেণি প্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীরা সরকারি কলেজে সুযোগ পেতো। তখনকার দিকে খাতা কাটার সময় শিক্ষকগণ নাম্বার দিতেন ৩৩+++ এই হারে। ৬০ অতিক্রম করলেই শিক্ষকের চোখ ছানাবড়া হয়ে যেতো। ৮০ উঠলে তো আর কথাই নেই। লেটার মার্ক!

আমাদের সময় বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। দেশে তখন শিক্ষাবোর্ড মোট ৪টি। ঢাকা, কুমিল্লা, যশোর, আর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষা তখন ক্রমশ: বিকাশমান। আস্তে আস্তে স্কুল সংখ্যা বাড়ছে,

ছাত্র-ছাত্রী বাড়ছে, সরকারি স্কুলসমূহে প্রতিযোগিতমূলক ভালো পড়ালেখা হচ্ছে। বোর্ডগুলোতে ৪টি বিভাগ- কলা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও কৃষি। প্রতিটি বিভাগ ১ম ২০জন বোর্ড-স্ট্যান্ড করতো। নাম্বার দেয়ার ক্ষেত্রে হাতে রেখে দেয়ার প্রবণতা

বহাল ছিল। ১ম শ্রেণিতে পাসের হার ছিল তুলনামূলকভাবে কম। সরকারি কলেজে ২য় শ্রেণিতে পাস করা ছেলে-মেয়েরা সুযোগ পেতো। আমাদের সময় MCQ বা বহু নির্বাচনি প্রশ্নের ব্যবস্থা ছিলনা। সৃজনশীল প্রশ্ন ছিল না।

আমাদের পড়ালেখায় কমপ্রিহেনসিভ ব্যবস্থা ছিল বেশি। অধীত বিষয়টি ভালভাবে বুঝানো হতো। ছাত্র-ছাত্রীগণ পাঠ্যপুস্তকের পড়া বিষয়গুলো মন দিয়ে, অধ্যয়ন করতেন, বুঝতেন। ফলে তাদের অর্জিত জ্ঞান মুখস্থ-বিদ্যা বা হ্যাঁ, না-তে সীমাবদ্ধ থাকতো না। আমাদের সময়ে ক্লাস সিক্স/সেভেনে একজন ছাত্র ভালোভাবে Childs easy grammar, বইটি পড়তো। আর এতেই মৌলিক ইংরেজির শক্ত ভিত্তি হয়ে যেতো তার। স্কুলে পড়া অবস্থাতেই একজন ছাত্র/ছাত্রী Conjugation করতে পারতো অনায়াসে।

আজকের বাংলাদেশে শিক্ষাবোর্ডের সংখ্যা-১১টি। ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, যশোর ও বরিশাল। এছাড়া রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ও কারিগরী শিক্ষাবোর্ড এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৯ সালে এস.এস.সি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মোট ২১ লাখ ২৭ হাজার ৮১৫ জন পরীক্ষার্থী। পাস করেছে ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন। গড় পাসের হার হল ৮২.২০%। ২০১৮ সালে পাসের হার ছিল ৭৭.৭৭%। জি.পি.এ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। গতবার এ সংখ্যা ছিল ১লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। এক অর্থে বর্তমান সময়ে শিক্ষা সম্প্রসারসান। কারিগরী মাদ্রাসা সহ মোট ১১টি বোর্ড, অসংখ্য ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছে, ভাল ফলাফল করছে।

এখনকার দিনে সরকারি নির্দেশের কারণেই পরীক্ষার খাতা যারা দেখেন তারা নাম্বার দেন ১০০ —ধরণের। ধরেই নেয়া হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী অবশ্যই পাস করবে, জি.পি.এ-৫ পাওয়াটাই স্বাভাবিক, না পাওয়াটা পরীক্ষকের ব্যর্থতা। পরীক্ষকদেরই পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে তারা কে কত পরিমাণ জি.পি.এ-৫ দিতে পারছেন।

ভালো ফলাফল আশার আলো, তবে-

ছাত্র-ছাত্রীদের ভালো ফলাফল হওয়াতে আমরা কতটুকু খুশি কিংবা বেজার হচ্ছি আমি জানি না, জানতে চাইও না। আমি নিজে খুব বেশি খুশি দেশে পাসের হার বাড়ছে। ছাত্রছাত্রীরা ভাল ফলাফল করছে। এক ধরনের প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে তারা বেড়ে উঠছে। সে সাথে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু সংবাদ আমি ও আমার মতো অনেক সচেতন মানুষ, অভিভাবক সমাজ ও দেশপ্রেমিক জনতাকে কিছুটা ভাবিয়ে তুলছে। একদিন দেশের একটি অন্যতম ভাল স্কুলের প্রধান

বললেন, ‘ছেলেমেয়েরা জি.পি.এ-৫ পাচ্ছে, কিন্তু সে তুলনায়তো তারা ভাইভা বোর্ডে আশান্বিত ফলাফল করতে পারছে না। একটু ঘুরিয়ে বা ভেতর থেকে প্রশ্ন করলে তারা উত্তর দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। কোন কোন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষার খাতায় সকল প্রশ্নের উত্তরে একই কথা লিখে দিয়ে আসছে, তারপরও সে ভাল ফলাফল করছে। তিনি বললেন, বোর্ডের নির্দেশ- লিখলেই পাস করাতে হবে। এ যদি হয় অবস্থা তাহলে শিক্ষার মান কোনদিকে যাবে?’

দিন যতো যাচ্ছে, বইয়ের সংখ্যা বাড়ছে, কলেবর বাড়ছে। সৃজনশীল প্রশ্ন আর উত্তর সম্বলিত বইতে বাজার ছেয়ে যাচ্ছে। এসব বই না কিনে কারও পক্ষে ফাইনালে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়। অর্থাৎ নোটবই আমাদেরকে কোনোভাবেই ছাড়ছে না। এখন প্রতিটি ছেলেমেয়েকে এসব বই অপরিহার্যভাবে কিনতে হচ্ছে।

‘তাঁদের’ সময়ে কোথাও কোন নোট বইয়ের বালাই ছিলো না। তাঁরা নিজেরাই নিজেদের জন্য নোট তৈরি করতেন। সেই নোট দেখে শিক্ষকগণ আশান্বিত, শিহরিত হতেন। কোনো কোনো মেধাবী ছাত্র/ছাত্রীর নোটসমূহ শিক্ষকগণ অন্যদের অনুপ্রাণিত করার জন্য রেখে দিতেন। গর্ব করতেন তাদের সুন্দর হাতের লেখা আর তার চেয়েও মনোমুগ্ধকর নোট নিয়ে। এমন একজন ‘তাঁদের’ কথা না বললেই নয়। চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাই স্কুল থেকে ১৯৫৫ সালে এস.এস.সি-তে পুরো পূর্ব পাকিস্তানে বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেন জনাব মুহাম্মদ আলী। তিনি এইচ.এস.সি-তেও ১ম শ্রেণিতে ১ম হন। একই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে ১ম শ্রেণিতে ১ম, গোল্ড মেডেলিস্ট হন। তিনি এখনও বেঁচে আছেন। কর্মজীবনের সকল ক্ষেত্রেই তিনি সফলতম ব্যক্তি, ব্যক্তিজীবনে অসাধারণ সজ্জন ও ক্ষুরধার ব্যক্তিত্ব। ইনিই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর মোহাম্মদ আলী।

‘আমাদের’ সময়টি ছিলো ভিন্নরকম। সদ্য স্বাধীন দেশে সবকিছুতে দেশের উপযোগী করে গুছিয়ে নেবার দিন। ইতোমধ্যে দেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবার খুন হওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটে। দেশ একটি টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে, ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছিল। এই রকম অবস্থাতেও ‘আমাদের’ সময়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে ১৯৭৫ সালে ১ম স্ট্যান্ড করেন “চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম হাই স্কুলের” মেধাবী ছাত্র তওহীদুল আলম। তিনি এইচ.এস.সি-তেও বোর্ডে ১ম হন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে প্রথম হয়ে ডাক্তার হন। মনে আছে আমাদের শিক্ষকগণ এই তওহীদ ভাইয়ের স্কুল ফাইনালের খাতা আমাদেরকে ক্লাসে দেখাতেন। সমস্ত খাতাটাই কোনো ভুল-ত্রুটিমুক্ত। চারিদিকে মার্জিন করা, বিশেষ বিশেষ উল্লেখযোগ্য অংশ মার্কার দিয়ে চিহ্নিত। মুক্তার মতো গোটা গোটা লেখা।

‘তোমাদের’ সময়টি আরও ভিন্নরকম। দেশ এখন উন্নয়নের সিঁড়িতে পা রেখে এগিয়ে যাচ্ছে। তোমাদের সময় লক্ষ তরুণ-তরুণি জি.পি.এ-৫ পাচ্ছে। ভাবতে পারো- জি.পি.এ-৫ মানে গড় নাম্বার ৮০% এর উপর। যারা গোল্ডেন-৫ পায় তাদের গড় নাম্বার ৯০% এর উপর। এক অর্থে তোমরা আগের দুই প্রজন্মকে ছাড়িয়ে গেছো অনেক আগেই। তোমাদের সময়টি অনেক আগেই আমাদের সময়কে অতিক্রম করে গেছে। মেধা, জ্ঞান, পরীক্ষায় তোমরা কিন্তু সত্যি সত্যি এগিয়ে। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা অবিশ্বাস্য রকমের নাম্বার পেয়ে আকাশে তারা হয়ে জ্বলছে। বাংলাদেশের পুরো আকাশটাই যেনো তারাময়। তারায় তারায় ছেয়ে আছে আমাদের প্রতিটি দিগন্ত। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রচারিত একটি অন্যতম জনপ্রিয় দেশের গান ছিলো- ‘পূর্ব দিগন্তে, সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল, রক্ত লাল রক্ত লাল।’ আজ যেনো সে গানেরই প্রতিধ্বনি-বাংলার আকাশে, মেলা বসেছে তারার মেলা, তারার মেলা, তারার মেলা। এই তারার মেলা ইঙ্গিত দিচ্ছে এক অপূর্ব সুন্দর বাংলাদেশের, মেধাবীদের বাংলাদেশের, সৃজন, উন্নয়ন আর কল্যাণের বাংলাদেশের।

তোমাদেরকাছে আমাদের প্রত্যাশ্য:

‘আমাদের’ কাছে ‘তাঁদের’ অনেক প্রত্যাশা ছিল। সেসব প্রত্যাশার অনেকগুলোই আমরা পূরণ করতে পারিনি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ‘প্রজন্মের গ্যাপ’। তারা ছিলেন এক প্রজন্ম আর আমরা আরেক প্রজন্ম। পূর্বপুরুষেরা আমাদের পর্যন্ত তাদের প্রত্যাশার, চাওয়া-পাওয়ার বাণী পৌঁছে দিতে পারেননি। আর আমরাও পারিনি উত্তর পুরুষ হিসেবে তাদের উত্তরাধিকার বুঝে নিতে।

আজ আমরা অনেকেই জীবন সায়াহ্নের অস্তরাগের দিকে তাকিয়ে আছি। শিক্ষকদের ব্যর্থতার গ্লানি মুছতে পারিনি। এই কষ্ট বুকের উপরে পাথরের মতো চেপে আছে। বার বার হৃদয় বীণায় বেজে উঠছে- ‘তোমার হলো শুরু, আমার হলো সারা।’ আসলে আমার বা আমাদের সারা হয়নি, জীবনের মূল্যবান সময়গুলো পথে পথে বয়ে গেছে, রয়ে গেছে অনিষ্পন্ন কর্মযজ্ঞের বিশাল বোঝা। যে বোঝা আমরা সঠিকভাবে বইতে পারিনি, সেটিই রেখে যাচ্ছি তোমাদের কাছে। এ বোঝা টেনে নিয়ে একটি শুভ্র সমুজ্জ্বল আলোকময় দিন ফিরিয়ে আনার

ভার রইলো তোমাদের কাছে।

মন বলছে- তুমি আর তোমরাই পারবে পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া স্বপ্নপূরণ করতে আর ‘আমাদের’ অপারগতাকে হটিয়ে একটি পারঙ্গম প্রজন্ম তৈরি করতে। আজ তাই তোমাদের বলে যেতে চাই:

এক. অতীত নিয়ে বারবার অনুশোচনা নয়। এসো অতীতের ভুল থেকে শিখি, বর্তমানের দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করি। আর ভবিষ্যতের শুভ আলোকময় পথ রচনা করি।

দুই. তোমাদের যে মেধাবী ফলাফল, এর ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। তবে কেবল ভাল grade পেয়ে পাস করলেই চলবে না। এই ভালোর ধারাবাহিকতার সাথে ভালো মানুষ হওয়ার প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে হবে। চিন্তা করে দেখো, এদেশে সব বড় বড় চুরি, ডাকাতি, দূর্নীতি, দুষ্কর্ম মেধাবী ও শিক্ষিত মানুষরাই করেন। এর প্রধান কারণ তারা শিক্ষিত বর্বরে পরিণত হয়েছেন। তোমরা সিদ্ধান্ত নাও- এই অপমানকর অবস্থা থেকে নিজেকে, দেশকে আর দশকে বাঁচাবে বলে।

তিন. দেশে যারাই মেধাবী মুখ তারা সবাই ভালো ফলাফল করে বিদেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করছে। আমাদের মেধাবীরা বিদেশে গিয়ে তাদের জন্য বিরাট বিরাট আবিষ্কার করছেন, বড় পদে বসে ঐসব দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন-দেশে থাকছেন না। মেধা পাচারের এই তীব্র প্রতিযোগিতা বন্ধ না হলে কে রক্ষা করবে আমাদের? পারবে কি মেধা পাচার রোধে এগিয়ে আসতে? বিদেশ যাবো বেড়াতে, ডিগ্রি অর্জন করতে, অভিজ্ঞতা নিতে; দেশকে ঠকিয়ে বিদেশের গোলামীর জন্য নয়।

চার. যে স্রষ্টা তোমাদের এতো মেধা দিলেন, ভালোবেসে এমন একটি সবুজ শ্যামল দেশে জন্ম দিলেন, তারার মতো জ্বলতে দিলেন আকাশের গায়- সে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতায় বিনয়ী হও, তাঁর নির্দেশ মেনে চলো। তাহলেই দেখবে একটি দেশপ্রেমিক, স্বাপ্নিক, আলোকিত প্রজন্মের জন্ম হবে, যারা হতাশার কালো মেঘ সরিয়ে নেবে, ফিরিয়ে দেবে আশা ও নির্ভরতার সুদিন।